চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম বন্দরে গত তিন মাসে (আগস্ট থেকে অক্টোবর) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে আট লাখ ৩০ হাজার ৫৮২টি। গত বছর একই সময়ের চেয়ে ৭৬ হাজার ৯৮৬টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেশি হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ১০.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। চট্টগ্রাম বন্দরের শহীদ মো. ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৫.৫ হাজার কনটেইনার স্থিতি ছিল। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে কনটেইনার ছিল। তবে গত তিন মাসে পদ্ধতিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে তা ৩৪ হাজারে নামিয়ে আনা হয়। আগে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় ছিল ৬ থেকে ৮ দিন। বর্তমানে অপেক্ষমাণ সময় একদিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের গত ৪ মাসে ১ হাজার ৬৪৩.৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ২১.৮৫ শতাংশ বেশি এবং একই সাথে রাজস্ব উদ্ধৃত ২৮.০১ শতাংশ বেশি। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক পোর্ট ইকোসিস্টেমে, পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম প্রবর্তন, ডিজিটালাইজেশন এবং আধুনিকীকরণের মাধ্যমে একটি বিশ্বমানের বন্দরে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি পত্র ও নথি আদান-প্রদান সহজে ও দ্রুত সম্পাদনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের শতকরা ৮০ ভাগ কাজ ডি-নথি পদ্ধতিতে সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে অবস্থানরত জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য ১২৮ জন ওয়াচম্যান নিবন্ধন করার লক্ষ্যে প্রার্থীদের শারীরিক বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। বহিঃনোঙ্গরে অবস্থানরত জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পণ্য সরবরাহকারী লাইফ বোটগুলোতে নির্দিষ্ট (হলুদ) রং করাসহ এআইএস এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম সংযোগ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ এবং এর মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি প্রকল্পে গত তিন মাসে ১.৩৭ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি আগামী ২০২৫ সালের জুন এ সমাপ্ত হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের সিন্ডিকেট, মনোপলি ভেঙে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ২৩টি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি/অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে যার সুফল ইতিমধ্যে বন্দর ব্যবহারকারীগণ পেতে শুরু করেছেন। আমদানি পণ্যের কনটেইনার পর্যাপ্ত হলে করাচি-চট্টগ্রাম রুটে ভবিষ্যতে নিয়মিত জাহাজ পরিচালনা করতে মালিকরা আগ্রহী। ইতিপূর্বে পাকিস্তানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো। নতুন রুট চালু হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এতে সাশ্রয়ী ব্যয় ও সময়ে উভয় দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে নতুনভাবে গতিশীলতা সৃষ্টি হবে। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, করাচি বন্দর থেকে লাইনার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রথমবার গত ১১ নভেম্বর এইচআর শিপিং লাইনের অধীনে একটি জাহাজে ৩২৮ কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম আসে। ১২ নভেম্বর কনটেইনার খালাস করে চট্টগ্রাম ত্যাগ করে। জাহাজটি মূলত দুবাইয়ের জেবল আলী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে করাচি বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম আসে। জাহাজটির সাধারণ রাউন্টিং হচ্ছে দুবাই জেবল আলী- করাচি-চট্টগ্রাম-ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া-মুন্দা (ভারত)-দুবাই। তিনি বলেন, গত তিন মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৮২ টিইইউ’স কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। যা বিগত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৬ হাজার ৯৮৬ টিইইউ’স বেশি, প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, শহীদুল আলম, কমডোর এম ফজলার রহমান প্রমুখ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
